ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চুনারুঘাটে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলন, ট্রাক্টরসহ আটক ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা জরিমানা চুনারুঘাটে বিভিন্ন পূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক ড.সরফরাজ হবিগঞ্জে ৬৪ পূজামণ্ডপে ৫৫ বিজিবির বিশেষ নিরাপত্তা চুনারুঘাটে পূজামণ্ডপে ব্যস্ত সময় পার করছেন এমপি ফয়সল চুনারুঘাটে অনুমতি ছাড়া বাণিজ্য মেলা, ৫ জনের ৭ দিনের কারা*দণ্ড ধর্ম মানুষের সাংবিধানিক অধিকার: এমপি ফয়সল দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ড্রোন নজরদারি, মাঠে ৩৪ প্লাটুন বিজিবি চা বাগানে পূজার আনন্দ,শ্রমিকদের পাশে এমপি ফয়সল যুক্তরাষ্ট্রে ১১ দিনের ব্যবধানে দুই ভাইয়ের মৃ*ত্যু, চুনারুঘাটে শোকের মাতম  হবিগঞ্জে সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

আজমিরীগঞ্জের হাওয়রে হাসছে ধান, কাঁদছে কৃষকের প্রাণ

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ১১:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৪৪ বার পড়া হয়েছে

মোঃ আশিকুর রহমান, আজমিরীগঞ্জ থেকে :-

আজমিরীগঞ্জের হাওড়জুড়ে পাকা ধানের সোনালি ঢেউ, সকালের রোদে দুলছে কৃষকের বছরের পরিশ্রমের ফসল। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যের মাঝেও স্বস্তি নেই,হাওরজুড়ে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ। তেল সংকট, শ্রমিকের অভাব আর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মাঠের সোনালি ফসল ঘরে তোলা নিয়ে গভীর শঙ্কায় পড়েছেন এই অঞ্চলের কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৫ টি ইউনিয়ন ও ১টি পেীরসভার ছোট-বড় হাওরে এবার প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে কিছু ক্ষতি হলেও বর্তমানে অধিকাংশ ধান কাটার উপযোগী হয়ে উঠেছে।মাঠের ধান পেকে গেলেও তা কাটতে গিয়ে কৃষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আকাশে মেঘের আনাগোনা ও বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় দ্রুত ধান কাটার চাপ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিক ও যান্ত্রিক সহায়তার অভাবে কৃষকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, ধান কাটার ভরা মৌসুমেও শ্রমিকের তীব্র সংকট বিরাজ করছে। দ্বিগুণ মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
প্রতিদিন জন প্রতি ১০০০/১২০০ টাকা মজুরিতে ধান কাটছেন। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জমিতে জলাবদ্ধতায় বাধ্য হয়ে পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটতে হচ্ছে শ্রমিকদের।বর্তমানে শ্রমিক দিয়ে ১ বিঘা ধান কাটতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৪০০০-৫০০০ টাকা, আর মাড়াইয়ে বাড়তি গুনতে হচ্ছে আরও প্রায় ৮০০ টাকা।
স্থানীয় কৃষক আবুল হাসান বলেন, ‘ধানের ফলন ভালো হয়েছে, কিন্তু তেল সংকটে হারভেস্টার চালানো যাচ্ছে না। আবার বেশি মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তার ওপর ঝড়-বৃষ্টি আর শিলাবৃষ্টির ভয় তো আছেই।’এমনিতেই নিচু জমি তলিয়ে গেছে, এখন প্রজেক্টের জমি নিয়ে ও চিন্তায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ভর্তুকিতে বিতরণ করা অনেক হারভেস্টার মেশিন মাঠে দেখা যাচ্ছে না।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ রোহুল আমিন এর সঙ্গে মুঠোফোনে আলাপ করলে তিনি বলেন, আগাম বন্যার ঝুঁকি এড়াতে কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হাওয়রে এখন পর্যন্ত ৩৫.৩০% ধান কাটা হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চুনারুঘাটে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলন, ট্রাক্টরসহ আটক ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা জরিমানা

আজমিরীগঞ্জের হাওয়রে হাসছে ধান, কাঁদছে কৃষকের প্রাণ

আপডেট সময় ১১:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

মোঃ আশিকুর রহমান, আজমিরীগঞ্জ থেকে :-

আজমিরীগঞ্জের হাওড়জুড়ে পাকা ধানের সোনালি ঢেউ, সকালের রোদে দুলছে কৃষকের বছরের পরিশ্রমের ফসল। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যের মাঝেও স্বস্তি নেই,হাওরজুড়ে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ। তেল সংকট, শ্রমিকের অভাব আর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মাঠের সোনালি ফসল ঘরে তোলা নিয়ে গভীর শঙ্কায় পড়েছেন এই অঞ্চলের কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৫ টি ইউনিয়ন ও ১টি পেীরসভার ছোট-বড় হাওরে এবার প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে কিছু ক্ষতি হলেও বর্তমানে অধিকাংশ ধান কাটার উপযোগী হয়ে উঠেছে।মাঠের ধান পেকে গেলেও তা কাটতে গিয়ে কৃষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আকাশে মেঘের আনাগোনা ও বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় দ্রুত ধান কাটার চাপ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিক ও যান্ত্রিক সহায়তার অভাবে কৃষকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, ধান কাটার ভরা মৌসুমেও শ্রমিকের তীব্র সংকট বিরাজ করছে। দ্বিগুণ মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
প্রতিদিন জন প্রতি ১০০০/১২০০ টাকা মজুরিতে ধান কাটছেন। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জমিতে জলাবদ্ধতায় বাধ্য হয়ে পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটতে হচ্ছে শ্রমিকদের।বর্তমানে শ্রমিক দিয়ে ১ বিঘা ধান কাটতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৪০০০-৫০০০ টাকা, আর মাড়াইয়ে বাড়তি গুনতে হচ্ছে আরও প্রায় ৮০০ টাকা।
স্থানীয় কৃষক আবুল হাসান বলেন, ‘ধানের ফলন ভালো হয়েছে, কিন্তু তেল সংকটে হারভেস্টার চালানো যাচ্ছে না। আবার বেশি মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তার ওপর ঝড়-বৃষ্টি আর শিলাবৃষ্টির ভয় তো আছেই।’এমনিতেই নিচু জমি তলিয়ে গেছে, এখন প্রজেক্টের জমি নিয়ে ও চিন্তায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ভর্তুকিতে বিতরণ করা অনেক হারভেস্টার মেশিন মাঠে দেখা যাচ্ছে না।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ রোহুল আমিন এর সঙ্গে মুঠোফোনে আলাপ করলে তিনি বলেন, আগাম বন্যার ঝুঁকি এড়াতে কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হাওয়রে এখন পর্যন্ত ৩৫.৩০% ধান কাটা হয়েছে।