ঢাকা , রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শায়েস্তাগঞ্জ শিক্ষা ও সমাজ কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৯৫ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা শায়েস্তাগঞ্জে সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি শীর্ষক আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত শায়েস্তাগঞ্জে পুকুর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার হবিগঞ্জের কৃতিসন্তান জাবেদের সাফল্য অর্জন প্রকৌশলী ফখরুল আলমের ‘বিলেতের আলোকিতজন’ গ্রন্থের পাঠ আলোচনা অনুষ্ঠিত শায়েস্তাগঞ্জে পাবলিক লাইব্রেরি ৪২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন ও গুণীজনকে সম্মাননা প্রদান শায়েস্তাগঞ্জে হত্যা মামলার প্রধান আসামী ফারুক চুনারুঘাট থেকে গ্রেফতার হবিগঞ্জ সদর পিএফজি আয়োজিত আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত শায়েস্তাগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ৩ দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

আজমিরীগঞ্জের হাওয়রে হাসছে ধান, কাঁদছে কৃষকের প্রাণ

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ১১:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ১২৬ বার পড়া হয়েছে

মোঃ আশিকুর রহমান, আজমিরীগঞ্জ থেকে :-

আজমিরীগঞ্জের হাওড়জুড়ে পাকা ধানের সোনালি ঢেউ, সকালের রোদে দুলছে কৃষকের বছরের পরিশ্রমের ফসল। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যের মাঝেও স্বস্তি নেই,হাওরজুড়ে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ। তেল সংকট, শ্রমিকের অভাব আর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মাঠের সোনালি ফসল ঘরে তোলা নিয়ে গভীর শঙ্কায় পড়েছেন এই অঞ্চলের কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৫ টি ইউনিয়ন ও ১টি পেীরসভার ছোট-বড় হাওরে এবার প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে কিছু ক্ষতি হলেও বর্তমানে অধিকাংশ ধান কাটার উপযোগী হয়ে উঠেছে।মাঠের ধান পেকে গেলেও তা কাটতে গিয়ে কৃষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আকাশে মেঘের আনাগোনা ও বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় দ্রুত ধান কাটার চাপ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিক ও যান্ত্রিক সহায়তার অভাবে কৃষকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, ধান কাটার ভরা মৌসুমেও শ্রমিকের তীব্র সংকট বিরাজ করছে। দ্বিগুণ মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
প্রতিদিন জন প্রতি ১০০০/১২০০ টাকা মজুরিতে ধান কাটছেন। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জমিতে জলাবদ্ধতায় বাধ্য হয়ে পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটতে হচ্ছে শ্রমিকদের।বর্তমানে শ্রমিক দিয়ে ১ বিঘা ধান কাটতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৪০০০-৫০০০ টাকা, আর মাড়াইয়ে বাড়তি গুনতে হচ্ছে আরও প্রায় ৮০০ টাকা।
স্থানীয় কৃষক আবুল হাসান বলেন, ‘ধানের ফলন ভালো হয়েছে, কিন্তু তেল সংকটে হারভেস্টার চালানো যাচ্ছে না। আবার বেশি মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তার ওপর ঝড়-বৃষ্টি আর শিলাবৃষ্টির ভয় তো আছেই।’এমনিতেই নিচু জমি তলিয়ে গেছে, এখন প্রজেক্টের জমি নিয়ে ও চিন্তায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ভর্তুকিতে বিতরণ করা অনেক হারভেস্টার মেশিন মাঠে দেখা যাচ্ছে না।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ রোহুল আমিন এর সঙ্গে মুঠোফোনে আলাপ করলে তিনি বলেন, আগাম বন্যার ঝুঁকি এড়াতে কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হাওয়রে এখন পর্যন্ত ৩৫.৩০% ধান কাটা হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

শায়েস্তাগঞ্জ শিক্ষা ও সমাজ কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৯৫ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

আজমিরীগঞ্জের হাওয়রে হাসছে ধান, কাঁদছে কৃষকের প্রাণ

আপডেট সময় ১১:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

মোঃ আশিকুর রহমান, আজমিরীগঞ্জ থেকে :-

আজমিরীগঞ্জের হাওড়জুড়ে পাকা ধানের সোনালি ঢেউ, সকালের রোদে দুলছে কৃষকের বছরের পরিশ্রমের ফসল। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যের মাঝেও স্বস্তি নেই,হাওরজুড়ে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ। তেল সংকট, শ্রমিকের অভাব আর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মাঠের সোনালি ফসল ঘরে তোলা নিয়ে গভীর শঙ্কায় পড়েছেন এই অঞ্চলের কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৫ টি ইউনিয়ন ও ১টি পেীরসভার ছোট-বড় হাওরে এবার প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে কিছু ক্ষতি হলেও বর্তমানে অধিকাংশ ধান কাটার উপযোগী হয়ে উঠেছে।মাঠের ধান পেকে গেলেও তা কাটতে গিয়ে কৃষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আকাশে মেঘের আনাগোনা ও বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় দ্রুত ধান কাটার চাপ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিক ও যান্ত্রিক সহায়তার অভাবে কৃষকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, ধান কাটার ভরা মৌসুমেও শ্রমিকের তীব্র সংকট বিরাজ করছে। দ্বিগুণ মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
প্রতিদিন জন প্রতি ১০০০/১২০০ টাকা মজুরিতে ধান কাটছেন। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জমিতে জলাবদ্ধতায় বাধ্য হয়ে পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটতে হচ্ছে শ্রমিকদের।বর্তমানে শ্রমিক দিয়ে ১ বিঘা ধান কাটতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৪০০০-৫০০০ টাকা, আর মাড়াইয়ে বাড়তি গুনতে হচ্ছে আরও প্রায় ৮০০ টাকা।
স্থানীয় কৃষক আবুল হাসান বলেন, ‘ধানের ফলন ভালো হয়েছে, কিন্তু তেল সংকটে হারভেস্টার চালানো যাচ্ছে না। আবার বেশি মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তার ওপর ঝড়-বৃষ্টি আর শিলাবৃষ্টির ভয় তো আছেই।’এমনিতেই নিচু জমি তলিয়ে গেছে, এখন প্রজেক্টের জমি নিয়ে ও চিন্তায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ভর্তুকিতে বিতরণ করা অনেক হারভেস্টার মেশিন মাঠে দেখা যাচ্ছে না।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ রোহুল আমিন এর সঙ্গে মুঠোফোনে আলাপ করলে তিনি বলেন, আগাম বন্যার ঝুঁকি এড়াতে কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হাওয়রে এখন পর্যন্ত ৩৫.৩০% ধান কাটা হয়েছে।