ঢাকা , শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চুনারুঘাটে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলন, ট্রাক্টরসহ আটক ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা জরিমানা চুনারুঘাটে বিভিন্ন পূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক ড.সরফরাজ হবিগঞ্জে ৬৪ পূজামণ্ডপে ৫৫ বিজিবির বিশেষ নিরাপত্তা চুনারুঘাটে পূজামণ্ডপে ব্যস্ত সময় পার করছেন এমপি ফয়সল চুনারুঘাটে অনুমতি ছাড়া বাণিজ্য মেলা, ৫ জনের ৭ দিনের কারা*দণ্ড ধর্ম মানুষের সাংবিধানিক অধিকার: এমপি ফয়সল দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ড্রোন নজরদারি, মাঠে ৩৪ প্লাটুন বিজিবি চা বাগানে পূজার আনন্দ,শ্রমিকদের পাশে এমপি ফয়সল যুক্তরাষ্ট্রে ১১ দিনের ব্যবধানে দুই ভাইয়ের মৃ*ত্যু, চুনারুঘাটে শোকের মাতম  হবিগঞ্জে সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

বানিয়াচংয়ে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেল ৫০০ একর বোরো ফসল, দুশ্চিন্তায় কৃষক

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০২:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ১১৪ বার পড়া হয়েছে

সজলু মিয়া হবিগঞ্জ থেকে :

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর ইউনিয়নের হুগলি হাওরে টানা বৃষ্টির পানিতে অন্তত ৫০০ একর বোরো ধান সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। এতে করে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশায় থাকা কৃষকদের স্বপ্ন এখন ভেসে যাচ্ছে পানির স্রোতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হুগলি হাওরে মোট প্রায় ৮০০ একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে হাওরের পানি দ্রুত বেড়ে যায়। ফলে অন্তত ৫০০ একর জমির ধান পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রেই ধান কাটার আগেই জমি ডুবে যাওয়ায় কৃষকরা কোনো ফসল ঘরে তুলতে পারেননি।
সুজাতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদিকুর রহমান জানান, হুগলি হাওরের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে শুধু হুগলি হাওর নয়, আশপাশের অন্যান্য হাওরও তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।”
এদিকে হাওরপাড়ের কৃষকরা জানান, তারা ধারদেনা করে জমিতে বোরো চাষ করেছিলেন। ধান কাটার সময় ঘনিয়ে আসায় ভালো ফলনের আশায় ছিলেন সবাই। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টির পানি বেড়ে যাওয়ায় মুহূর্তেই সব আশা ভেঙে পড়ে। অনেক কৃষক এখন নিঃস্ব হওয়ার আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌসুমের এই সময়ে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হাওর অঞ্চলে প্রায়ই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে আগাম সতর্কতা ও টেকসই বাঁধ ব্যবস্থাপনা জোরদার না হলে প্রতিবছরই কৃষকদের এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে কৃষকদের দাবি, দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়ন করে প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় এড়াতে হাওরের বাঁধ মজবুত করা এবং পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চুনারুঘাটে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলন, ট্রাক্টরসহ আটক ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা জরিমানা

বানিয়াচংয়ে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেল ৫০০ একর বোরো ফসল, দুশ্চিন্তায় কৃষক

আপডেট সময় ০২:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

সজলু মিয়া হবিগঞ্জ থেকে :

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর ইউনিয়নের হুগলি হাওরে টানা বৃষ্টির পানিতে অন্তত ৫০০ একর বোরো ধান সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। এতে করে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশায় থাকা কৃষকদের স্বপ্ন এখন ভেসে যাচ্ছে পানির স্রোতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হুগলি হাওরে মোট প্রায় ৮০০ একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে হাওরের পানি দ্রুত বেড়ে যায়। ফলে অন্তত ৫০০ একর জমির ধান পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রেই ধান কাটার আগেই জমি ডুবে যাওয়ায় কৃষকরা কোনো ফসল ঘরে তুলতে পারেননি।
সুজাতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদিকুর রহমান জানান, হুগলি হাওরের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে শুধু হুগলি হাওর নয়, আশপাশের অন্যান্য হাওরও তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।”
এদিকে হাওরপাড়ের কৃষকরা জানান, তারা ধারদেনা করে জমিতে বোরো চাষ করেছিলেন। ধান কাটার সময় ঘনিয়ে আসায় ভালো ফলনের আশায় ছিলেন সবাই। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টির পানি বেড়ে যাওয়ায় মুহূর্তেই সব আশা ভেঙে পড়ে। অনেক কৃষক এখন নিঃস্ব হওয়ার আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌসুমের এই সময়ে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হাওর অঞ্চলে প্রায়ই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে আগাম সতর্কতা ও টেকসই বাঁধ ব্যবস্থাপনা জোরদার না হলে প্রতিবছরই কৃষকদের এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে কৃষকদের দাবি, দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়ন করে প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় এড়াতে হাওরের বাঁধ মজবুত করা এবং পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।