ঢাকা , শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চুনারুঘাটে প্রধান শিক্ষক আইয়ূব আলীকে অবসর জনিত বিদায় সংবর্ধনা চুনারুঘাটে গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৪ চুনারুঘাটে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলন, ট্রাক্টরসহ আটক ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা জরিমানা চুনারুঘাটে বিভিন্ন পূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক ড.সরফরাজ হবিগঞ্জে ৬৪ পূজামণ্ডপে ৫৫ বিজিবির বিশেষ নিরাপত্তা চুনারুঘাটে পূজামণ্ডপে ব্যস্ত সময় পার করছেন এমপি ফয়সল চুনারুঘাটে অনুমতি ছাড়া বাণিজ্য মেলা, ৫ জনের ৭ দিনের কারা*দণ্ড ধর্ম মানুষের সাংবিধানিক অধিকার: এমপি ফয়সল দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ড্রোন নজরদারি, মাঠে ৩৪ প্লাটুন বিজিবি চা বাগানে পূজার আনন্দ,শ্রমিকদের পাশে এমপি ফয়সল

আগামীকাল ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস: আসছেন মন্ত্রী ও শীর্ষ নেতারা

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৪১ বার পড়া হয়েছে

রুবেল মিয়া, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

মহান মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল প্রণয়নের পুণ্যভূমি হবিগঞ্জের মাধবপুরের তেলিয়াপাড়া। আগামীকাল ৪ এপ্রিল সেই ঐতিহাসিক ‘তেলিয়াপাড়া দিবস’।

মুক্তিকামী বাঙালির সশস্ত্র সংগ্রামের দিক-নির্দেশনা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সদর দপ্তরের সেই স্মৃতিকে অম্লান রাখতে এবার তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয়েছে এক বর্ণাঢ্য স্মরণসভার।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শৌর্যবীর্যের স্মারক এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারক ও জাতীয় রাজনীতির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানের গাম্ভীর্য বাড়াতে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধান বক্তা ও বিশেষ অতিথি হিসেবে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
এছাড়াও আইনি ও বিচারিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম , হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জি কে গউছ এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহজ্ব এস এম ফয়সাল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।

১৯৭১ সালের এই দিনে তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোয় বসেছিল ঐতিহাসিক এক বৈঠক। তৎকালীন কর্নেল এম এ জি ওসমানীর নেতৃত্বে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেদিন সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এখান থেকেই সূচিত হয়েছিল সুসংগঠিত প্রতিরোধের মহাকাব্য। সেই স্মৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করেই বুলেট আকৃতির স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে প্রতিবছর জড়ো হন দেশপ্রেমিক জনতা।

দিবসটি উপলক্ষে তেলিয়াপাড়া চা বাগান এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। স্মৃতিসৌধের পাদদেশ থেকে শুরু করে সংলগ্ন এলাকাগুলো নবরূপে সাজানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

স্থানীয় আয়োজকরা জানিয়েছেন, সকালে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হবে। এরপর আলোচনা সভায় অতিথিবৃন্দ ইতিহাসের অজানা অধ্যায় এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার ওপর আলোকপাত করবেন।
তেলিয়াপাড়া দিবসের এই আয়োজন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দেশপ্রেমের শপথ নেওয়ার এক মহতী মহামিলনে পরিণত হতে যাচ্ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চুনারুঘাটে প্রধান শিক্ষক আইয়ূব আলীকে অবসর জনিত বিদায় সংবর্ধনা

আগামীকাল ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস: আসছেন মন্ত্রী ও শীর্ষ নেতারা

আপডেট সময় ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

রুবেল মিয়া, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

মহান মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল প্রণয়নের পুণ্যভূমি হবিগঞ্জের মাধবপুরের তেলিয়াপাড়া। আগামীকাল ৪ এপ্রিল সেই ঐতিহাসিক ‘তেলিয়াপাড়া দিবস’।

মুক্তিকামী বাঙালির সশস্ত্র সংগ্রামের দিক-নির্দেশনা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সদর দপ্তরের সেই স্মৃতিকে অম্লান রাখতে এবার তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয়েছে এক বর্ণাঢ্য স্মরণসভার।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শৌর্যবীর্যের স্মারক এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারক ও জাতীয় রাজনীতির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানের গাম্ভীর্য বাড়াতে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধান বক্তা ও বিশেষ অতিথি হিসেবে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
এছাড়াও আইনি ও বিচারিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম , হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জি কে গউছ এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহজ্ব এস এম ফয়সাল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।

১৯৭১ সালের এই দিনে তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোয় বসেছিল ঐতিহাসিক এক বৈঠক। তৎকালীন কর্নেল এম এ জি ওসমানীর নেতৃত্বে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেদিন সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এখান থেকেই সূচিত হয়েছিল সুসংগঠিত প্রতিরোধের মহাকাব্য। সেই স্মৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করেই বুলেট আকৃতির স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে প্রতিবছর জড়ো হন দেশপ্রেমিক জনতা।

দিবসটি উপলক্ষে তেলিয়াপাড়া চা বাগান এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। স্মৃতিসৌধের পাদদেশ থেকে শুরু করে সংলগ্ন এলাকাগুলো নবরূপে সাজানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

স্থানীয় আয়োজকরা জানিয়েছেন, সকালে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হবে। এরপর আলোচনা সভায় অতিথিবৃন্দ ইতিহাসের অজানা অধ্যায় এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার ওপর আলোকপাত করবেন।
তেলিয়াপাড়া দিবসের এই আয়োজন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দেশপ্রেমের শপথ নেওয়ার এক মহতী মহামিলনে পরিণত হতে যাচ্ছে।